দেশের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় কি কি পরিবর্তন হলো? মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক থাকলো না

নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৬ সালের পরে এই প্রথমবার কেন্দ্রীয় সরকার নতুন শিক্ষানীতি জারি করলো। এদিন এই নতুন শিক্ষানীতি কার্যকর করার জন্য সীলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শিক্ষানীতিতে ঠিক কি কি পরিবর্তন করা হয়েছে? বিস্তারিত জানানো হয়েছে এই পোস্টে। এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক ঘোষণা করা হয়েছে।

স্কুলের নতুন শিক্ষানীতি:

১) ১০+২ শিক্ষার বদলে ৫+৩+৩+৪ নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা।

২) ৩ বছর বয়স থেকে শিক্ষা শুরু হবে। স্কুলের আগে তিন বছরের প্রাক স্কুল শিক্ষা। শিক্ষা শুরুর প্রথম তিন বছরে প্লে গ্রুপ ও কিন্ডারগার্টেন, তারপর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ও তার আগের তিন বছর মিলিয়ে মোট পাঁচ বছরে ভিত তৈরি। (প্রথম ৫ বছর)।

৩) তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রস্তুতি পর্ব (৩ বছর)।

৪) ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মধ্যশিক্ষা বা মাঝারি পর্বের শিক্ষা (৩ বছর)।

৫) নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা। পরীক্ষা নেওয়া হবে সেমিস্টার পদ্ধতিতে। প্রতিবছর ২ টি করে সেমিস্টার, ৪ বছরে মোট ৮ টি সেমিস্টার। (৪ বছর)।

আরও পড়ুন -  ১০ হাজার চাকরির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, 10000 job in West Bengal

৬) পঞ্চম (সম্ভব হলে অষ্টম) শ্রেণী পর্যন্ত মাতৃভাষা বা স্থানীয় ভাষায় ক্লাস নেওয়া হবে। তবে বিষয় হিসেবে ইংরেজি থাকবে।

৭) মাধ্যমিক/ উচ্চমাধ্যমিকের মত বোর্ড পরীক্ষা থাকবে না।

৮) তৃতীয়, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে।

৯) বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কলা বিভাগ থাকবে না। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজের পছন্দমত বিষয় নির্বাচন করতে পারবে। যেমন: পদার্থবিদ্যার সঙ্গে ফ্যাশন টেকনোলজি নেওয়া যাবে যাবে, বা অংকের সঙ্গে গান রাখা যাবে।

কলেজের নতুন শিক্ষানীতি:

১) ৩ বছরের পরিবর্তে ৪ বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রী। এই ৪ বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রী কোর্সকে বলা হচ্ছে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি ব্যাচেলার প্রোগ্রাম। ফলে পড়ুয়ারা পছন্দমত বিষয় নির্বাচন করতে পারবে। সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা নিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় বর্ষে বেরিয়ে আসা যাবে। তাই এই কোর্স কে বলা হচ্ছে মাল্টিপল এন্ট্রি অন্ড এক্সিট সিস্টেম। এবং প্রতিবছরের গ্রেড বা নম্বর জমা থাকবে ডিজিটাল লকারে।

আরও পড়ুন -  জেলায় জেলায় ক্লার্ক পদে নিয়োগ, মাধ্যমিক পাশে আবেদন করুন, WB Clerk Madhyamik pass Job

২) থাকবেনা এম-ফিল। স্নাতকোত্তরে গবেষণা করতে চাইলে ৪ বছরের ডিগ্রী কোর্স পাশ করার পরে পিএইচডি করা যাবে।

৩) ইউজিসি, এআইসিটিই এর মতো উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি আলাদা করে থাকবে না। তৈরি হবে শিক্ষাব্যবস্থার নতুন কমিশন বা পর্ষদ। কলেজগুলোকে দেওয়া হবে স্বাধীনতা। কলেজগুলির পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে তা দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শিক্ষানীতি বিস্তারিত ভাবে জানানো হলো। নতুন শিক্ষানীতিতে কোনরূপ পরিবর্তন করা হলে এই পোস্টে আপডেট দেওয়া হবে। এই শিক্ষানীতি কতটা কার্যকরী হতে পারে কমেন্ট করে জানাবেন। তবে এই নতুন শিক্ষানীতির নির্দেশিকা কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। পরবর্তী আপডেট ও প্রতিদিন চাকরির খবর পেতে চোখ রাখুন Exambangla.com- এর পাতায়।

আরও পড়ুন -  মহিলাদের 5000 টাকা দেবে রাজ্য সরকার, মহিলাদের জন্য বিরাট সুখবর