করোনার বছর পাঁচেক পরে আবারও প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন থেকে একটি নতুন ভাইরাসের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যার নাম HMPV বা হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস। চীনে সতর্কতা জারি হওয়ার পরপরই ভারতবর্ষের আমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু থেকে শুরু করে কলকাতাতেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুর খোঁজ মিলেছে। তবে কি আবারও ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়তে চলেছে একটি নতুন ভাইরাস? আবার কি শুরু হতে পারে দেশজুড়ে লকডাউন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা?
[quads id=16]
HMPV ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্যঃ
HMPV বা হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস প্রথম শনাক্তকরণ হয়েছিল ২০০১ সালে। এরপর থেকে গোটা বিশ্বে বহু বছর ধরে ছড়িয়ে রয়েছে এই ভাইরাস। এর প্রকোপে বহু মানুষ বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধেরা আক্রান্ত হয়ে থাকেন। সাধারণত ইমিউনিটি সিস্টেম কমজুরি হলেই এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে।
HMPV ভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণঃ
HMPV আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাধারণ জ্বরের মতোই বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। জ্বরের পাশাপাশি কাশি, সর্দি এমনকি শ্বাসকষ্টের লক্ষণও দেখা দিতে পারে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা অত্যন্ত নিম্নমানের হলে, ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়ার মত অসুখের কবলে পড়তে পারেন রোগীরা। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সংক্রমনের তীব্রতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতার উপর নির্ভর করে এই রোগ নিবারণের সময়সীমা। যদিও বিভিন্ন গবেষণার দ্বারা এটি জানানো হচ্ছে যে সাধারণ জ্বর বা ফ্লু এর মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণাত্মক লক্ষণ প্রকাশ পেতে কম করে ২ থেকে ৭ দিন সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুনঃ কোন দেশের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি? চীন নাকি ভারত, 2025 সালে কোন দেশ এগিয়ে?
এই ভাইরাস কীভাবে স্থানান্তরিত হতে পারে?
১) আক্রান্ত ব্যক্তির হাসি বা কাশির মাধ্যমে,
২) কোন রকম ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ বা স্পর্শের মাধ্যমে,
৩) দরজার হাতল, লিফটের বাটন, চায়ের কাপ ইত্যাদির মাধ্যমে ইত্যাদি।
কীভাবে এর থেকে প্রতিকার পাওয়া যাবে?
১) আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতার উপর নির্ভর করছে এই রোগ সারার চাবিকাঠি। আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের ব্যাধি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের এবং শিশুদের এই ভাইরাসের কবলে পড়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি।
২) উপসর্গ প্রবল দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে রোগীকে।
৩) ভাইরাসের কবল থেকে বাঁচার জন্য ঘনঘন হাত ধোয়া উচিত।
৪) নিয়মিতভাবে স্যানিটাইজার এবং মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
৫) হাত দিয়ে অতিরিক্ত নাক-মুখ স্পর্শ না করা।
৬) আক্রান্ত হয়েছেন এমন ব্যক্তির থেকে দূরত্ব বজায় রাখা।
৭) সর্দি কাশি বা জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
৮) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
[quads id=16]
ইদানিংকালে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীনে ১৪ বছর বা তার কম বয়সী ছেলে- মেয়েদের মধ্যে এই ভাইরাসের প্রকোপ বেশি পরিমাণে দেখা গিয়েছে। এমনকি ভারতেও বেশ কিছু নমুনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হবার তথ্য জানা গিয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এবার কি তাহলে শিশুদের মধ্যেই এই ভাইরাসের দ্বারা মহামারী তৈরি হবে?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে এই ভাইরাসের প্রকোপ বহু বছর ধরেই রয়েছে সারা বিশ্বে। তাই এই বিষয়ে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করার কোন মানে নেই। ভারতবর্ষে এখনো পর্যন্ত ভয়াবহ ভাবে HMPV আক্রান্ত ব্যক্তির বা এই ভাইরাস দ্বারা মৃত্যু হয়েছে, এমন খবর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ ভারতের অঙ্গরাজ্য গুলির মুখ্যমন্ত্রীদের নামের তালিকা 2025
[quads id=16]
দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে চীনে আক্রান্তের সংখ্যার উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। কলকাতা সহ ভারতবর্ষের একাধিক স্থানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের খবর জানা গিয়েছে। তবে কলকাতায় আক্রান্ত ছয় মাসের শিশু ইতিমধ্যেই রোগমুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে বলে খবর।






