ইংরেজিতে এমএ পাশ করে চায়ের দোকান, চাকরি না পেয়ে এই সিদ্ধান্ত?

ইংরেজিতে এমএ পাশ করে চায়ের দোকান

মেয়েটা ইংরেজিতে এমএ পাশ। চায়ের দোকান নিয়ে প্লাটফর্মে! কি অবাক হচ্ছেন? না অবাক হওয়ার কিছুই নেই। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গেলে আপনারও চোখে পড়বে। স্টেশনের প্লাটফর্মে চার বাই চার ফুটের একটি দোকান ঘরে মেয়েটি চা বিক্রি করছে। বছর পঁচিশের মেয়ে টুকটুকি দাস ‘এমএ ইংলিশ চায়েওয়ালি’ নামে চায়ের দোকান চালু করেছে।

রবীন্দ্রভারতী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬১ শতাংশ নম্বর নিয়ে ইংরেজিতে মাস্টার ডিগ্রী পাশ করেছেন টুকটুকি। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো স্কুলের শিক্ষিকা বা কোনো কলেজের অধ্যাপিকা অথবা কোনো সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মী হবার কথা। কিন্তু সরকারি চাকরির অপেক্ষা না করে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে নিজের চায়ের দোকান খুলেছেন তিনি।

কয়েকদিন আগে থেকেই এরাজ্যে লোকাল ট্রেন চলা শুরু হয়েছে। তাই অন্যান্য স্টেশনের মত হাবড়া স্টেশনেও নিত্যযাত্রীদের ভিড় হচ্ছে। দোকানের এই নামকরণ দেখে নিত্যযাত্রীরা হতবাক। দোকানের নাম দেখেই সবাই বুঝতে পারছেন মেয়েটির শিক্ষাগত যোগ্যতা। এই উদ্যোগ দেখে অনেকেই উৎসাহ যুগিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও রীতিমত ভাইরাল তিনি। তবে এই দোকান চালু করার জন্য যথেষ্ট লড়াই করতে হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, একজন মেয়ে চায়ের দোকান দেবে একথা শুনে অনেকেই দোকান ভাড়া দিতে চাননি। অনেকে আবার এও বলেছেন, ‘এসব তোমার দ্বারা হবে না’। কথাগুলি তাকে শক্ত করে তুলেছে। বাড়ির লোকেরাও প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবটা মেনে নিতে পারেননি। তবে টুকটুকি তার বাবা-মা এবং দাদাকে ইউটিউব থেকে এই ধরনের উচ্চশিক্ষিতদের চায়ের দোকান দেখান এবং বোঝান। অবশেষে মত দেন বাবা-মা।

সবকিছু ঠিক ছিল, কিন্তু ‘এমএ ইংলিশ চায়েওয়ালি’ নামের এমএ পাশ মেয়ের চায়ের দোকান দেখে অনেকেই শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। দায়ী করা হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন বিলম্ব হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়াকেও। তবে এনিয়ে টুকটুকি বলেন, “না না ওসব কিছু নয়, দোকানের নামে নতুনত্ব রাখতে চেয়েছি। শিক্ষিত হয়েও যেকোনো কাজে এগিয়ে আসা যায় সেই বার্তা ও হয়তো আছে এই নামে”।