চাকরি না পেয়ে আত্মঘাতী রাজ্যের এক যুবক, বি-টেক পাশ করেছিলেন তিনি

চাকরি না পেয়ে আত্মঘাতী রাজ্যের এক যুবক

বি-টেক পাস করে মেলেনি চাকরি, রাজ্যে আবারও আত্মঘাতী এক যুবক। হুগলি জেলার বলাগড় থানার বাকুলিয়া ধোপাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ক্ষেত্রপুর গ্রামের এক হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান অয়ন পাল চাকরি না পেয়ে আত্মঘাতী হলেন। বাবা চাষের কাজ করে সংসার চালান। মা গৃহকর্ত্রী। এই অভাবের সংসারেও ছেলের স্বপ্নকে পূরণ করতে সপ্তগ্রাম -এর একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন বাবা। শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি নয়, অনেক কষ্টে পড়াশোনারও খরচ যোগান দিয়েছিলেন তিনি। ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য অয়ন -এর বাবা কৃষি জমি বন্ধক রেখে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু যেন বৃথা হয়ে গেলো।

অয়নের আশা ছিল, সে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু বি-টেক পাশ করার পরেই তার জীবনে নেমে আসে হতাশা। প্রথম থেকেই অয়ন চাপা স্বভাবের ছিল। তাই নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারেনি। অবসাদ তাকে দিন দিন গ্রাস করেছে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিল অয়ন। কিন্তু ভালোর ফল যে এমন হয়ে উঠতে পারে সেটা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি সে।

দীর্ঘ দুই বছর করোনা অতীমারীর জন্য বন্ধ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা সহ চাকরি ব্যবস্থা। কলেজে ক্যাম্পাসিং বন্ধ থাকার কারণে ঘরেই বসে থাকতে হয় অয়নকে। অন্যদিকে সংসারের অভাবও বেড়ে চলেছে দিন দিন। একজন উপযুক্ত সন্তান হয়ে বাবার পাশে দাঁড়াতে পারছে না। এইসব চিন্তা তাকে তাড়া করছিল। গত শুক্রবার দুপুরের খাবার শেষের পর নিজের ঘরে যায় অয়ন। দীর্ঘক্ষন ঘরের মধ্যে থাকা অয়ন -এর কোন সাড়া শব্দ না পাওয়ায় রীতিমতো ভয়ে চিৎকার শুরু করে দেয় অয়ন -এর মা। প্রতিবেশীরা দরজা খুলে দেখে যে অয়নের নিথর দেহ ঝুলছে। অতি শীঘ্রই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কালনা মহকুমা হাসপাতালে। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গত শনিবার অয়ন এর দেহ গ্রামে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। হত দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হাজারও আশার বীজ বপন করে চলে গেল না ফেরার দেশে।