উচ্চ মাধ্যমিকের পর কোন কোর্সটি সবচেয়ে ভালো? | উচ্চ মাধ্যমিকের পর কি নিয়ে পড়া উচিত?

Published By: Debasish Ghosh | Published On:
Share:

উচ্চ মাধ্যমিকের পরই ছাত্র- ছাত্রীদের ক্যারিয়ার পাথ (Career Path) নির্বাচনের পালা। এই ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকের পর কোন কোর্সটি সবচেয়ে ভালো? কোনটা নিয়ে পড়লে আগে চাকরি পাব? তা নিয়ে সব ছাত্র- ছাত্রীদের মনেই দ্বিধা থাকে। কারণ এখন সঠিক ক্যারিয়ার না বাছলে ভবিষ্যতে আফসোস করে আর কোনো লাভ নেই। এই প্রসঙ্গে ছাত্র- ছাত্রীদের সেরা গাইডেন্স দিতেই আজকের এই প্রতিবেদন। উচ্চ মাধ্যমিকের পর কার জন্য কোন ক্যারিয়ার সঠিক, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো নীচে।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর কোন কোর্সটি সবচেয়ে ভালো?

উচ্চমাধ্যমিকের পর কোন কোর্সটি আপনার জন্য “সেরা”, তা নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত রুচি, মেধা এবং ভবিষ্যতে কি হতে চান, তার উপর। বর্তমানে প্রথাগত জেনারেল কোর্সের (BA, BSc, BCom) পাশাপাশি প্রফেশনাল কোর্সের চাহিদা তুঙ্গে। আপনার স্ট্রিম কি – আর্টস, সাইন্স না কমার্স, তার ওপর ভিত্তি করে আপনার জন্য কোন কোর্স সঠিক তা নীচের আলোচনা থেকে দেখে নিন।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর কি নিয়ে পড়া উচিত?

উচ্চ মাধ্যমিকের পর পড়াশোনার মোড়ে দাঁড়িয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন- কোন স্ট্রিম বেছে নিলে ভবিষ্যৎটা আরও মজবুত হবে? Arts, Science ও Commerce তিনটি পথই সমান গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রতিটির গন্তব্য আলাদা। কেউ হয়তো গবেষণা বা টেকনোলজির দিকে এগোতে চান, কেউ প্রশাসন বা সমাজবিজ্ঞানে, আবার কেউ ব্যবসা ও অর্থনীতির জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে চান।

---Advertisement---

আর্টস নিয়ে পড়লে কোন কোন চাকরি পাওয়া যায়?

কলা বিভাগ বা আর্টস নিয়ে যারা পাস করেছেন, তাদের সামনে অনেক সুযোগ রয়েছে।

  • BA (Honours): আপনি যদি WBCS, UPSC এর মতো সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সফল হয়ে অফিসার হতে চান, তাহলে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলিতে অনার্স করে পরীক্ষায় বসতে পারেন। এছাড়াও যারা শিক্ষক হতে চান তারা অনার্সের পর MA তারপর B.Ed করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC/ CTET) -এর মত পরীক্ষাগুলি দিতে পারেন।
  • Law (LLB): উচ্চ মাধ্যমিকের পর ওকালতি বা ল একটি জনপ্রিয় স্ট্রিম। সাধারণত এটি ৩ বছরের, যা আপনি স্নাতক পাস করার পর করতে পারেন। তবে উচ্চমাধ্যমিক পাসরা ৫ বছরের ইন্টিগ্রেটেড LLB কোর্স করতে পারেন। খরচ প্রতিষ্ঠানভেদে ৫০,০০০ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এটি শেষ করে আইনজীবী বা লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হওয়া সম্ভব।
  • GNM Nursing: আপনি যদি আর্টস নিয়ে পড়ে থাকেন, তবে বর্তমানে GNM Nursing অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন একটি কোর্স। সাধারণত তিন বছরের হয়। আপনার উচ্চমাধ্যমিক রেজাল্ট ভালো থাকলে Joint Entrance দিয়ে সরকারি কলেজে চান্স পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ সামান্য। আর বেসরকারিতে করলে খরচ একটু বেশি। কোর্স শেষে সফলভাবে পাস করলে আপনি সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের কাজ পাবেন।
  • Journalism & Mass Communication: যারা মিডিয়াতে কাজ করতে চান, তারা ৩ বছরের এই কোর্সটি করতে পারেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামী প্রতিষ্ঠানে এই কোর্স করানো হয়। খরচ ২-৩ লক্ষ টাকার আশেপাশে।
  • Hotel Management: এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক প্রফেশনাল কোর্স। ৩ বছরের এই কোর্স শেষ করে নামী হোটেলে চাকরি পাওয়া যায়। IHM Kolkata আর্টসের পড়ুয়াদের জন্য অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান।

সাইন্স নিয়ে পড়লে কি কি চাকরি পাওয়া যায়?

বিজ্ঞান বিভাগ মানেই শুধুমাত্র ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার; এই ধারণা এখন অনেকটাই পুরনো। অবশ্যই ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল লাইন এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় ও স্থিতিশীল কেরিয়ার। তবে এর বাইরেও রয়েছে অসংখ্য সম্ভাবনার দরজা, যেখানে নিজের আগ্রহ অনুযায়ী এগিয়ে গিয়ে ভালো চাকরি ও প্রতিষ্ঠা পাওয়া সম্ভব।

ইঞ্জিনিয়ারিং (BE/ B.Tech)

৪ বছরের এই কোর্সে বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স, আইটি, ডেটা সায়েন্সের মতো শাখাগুলির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সরকারি কলেজে খরচ তুলনামূলক কম হলেও, বেসরকারি কলেজে মোট খরচ প্রায় ৫- ৮ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। পড়াশোনা শেষ করে আইটি কোম্পানি, স্টার্টআপ বা সরকারি ক্ষেত্রেও চাকরির সুযোগ থাকে।

মেডিকেল ও হেলথ সেক্টর

  • MBBS (ডাক্তারি): বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়াদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় কেরিয়ারগুলির মধ্যে অন্যতম হল MBBS। এই কোর্সে ভর্তি হতে হলে NEET পরীক্ষায় ভালো র‍্যাঙ্ক করা জরুরি। কোর্সের মেয়াদ সাড়ে ৫ বছর (৪.৫ বছর পড়াশোনা + ১ বছর ইন্টার্নশিপ)। সরকারি মেডিকেল কলেজে খরচ খুবই কম, কিন্তু বেসরকারি কলেজে খরচ অনেক বেশি হতে পারে। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি MD/ MS করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হওয়ার পথও খোলা থাকে, যার মাধ্যমে কেরিয়ারে আরও উন্নতি ও স্থায়িত্ব আসে।

 

  • B.Sc Nursing: ৪ বছরের এই কোর্স শেষ করলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল দুই ক্ষেত্রেই চাকরির সুযোগ প্রায় নিশ্চিত। WBJEE JENPUS পরীক্ষার মাধ্যমে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়।
    B.Pharm: ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, রিসার্চ ল্যাব, হাসপাতাল বা ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ সব ক্ষেত্রেই এই কোর্সের পরে কাজের সুযোগ রয়েছে। সাধারণত এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হয়। WBJEE JENPUS পরীক্ষার মাধ্যমে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়।

 

  • MLT (Medical Lab Technology): ২- ৩ বছরের এই কোর্সে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাব টেস্ট (রক্ত, ইউরিন ইত্যাদি) করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্স শেষে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল বা ল্যাবরেটরিতে সহজেই চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়।
  • OT Technician (অপারেশন থিয়েটার টেকনিশিয়ান): এই কোর্সে অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও সার্জারির সময় ডাক্তারদের সহায়তা করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২- ৩ বছরের মধ্যেই কোর্স শেষ করে হাসপাতালগুলিতে দ্রুত চাকরি পাওয়ার ভালো সুযোগ থাকে।

এসব কোর্স সম্পন্ন করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে SSKM বা R.G. Kar-এর মতো সরকারি মেডিকেল কলেজে তুলনামূলক কম খরচে এই কোর্সগুলি করা যায়।

---Advertisement---

কমার্সের জন্য কোন কোর্স ভালো

কমার্স নিয়ে পড়লে কি কি ক্যারিয়ার সবচেয়ে ভালো, দেখুন

  • B.Com (Honours): কমার্স নিয়ে পড়ে আপনি যদি ব্যাংকিং বা ফিন্যান্স সেক্টরে চাকরির স্বপ্ন দেখছেন, তবে কোনো সাবজেক্ট অনার্স নিয়ে ৩ বছরের B.Com করতে পারেন। সরকারি কলেজে এর খরচ অত্যন্ত সীমিত।
  • CA (Chartered Accountancy): এটি কমার্সের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং সম্মানজনক কোর্স। এটি সম্পূর্ণ করতে ৫ বছর সময় লাগতে পারে এবং এর চাহিদা বিশ্বজুড়ে। ICAI হলো এর প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই কোর্স করার পর আপনি সরকারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন MNC কোম্পানির কাজ পেতে পারেন।
  • BBA (Bachelor of Business Administration): যারা ম্যানেজমেন্টে আগ্রহী, তারা ৩ বছরের এই কোর্সটি করতে পারেন। খরচ ২-৪ লক্ষ টাকা। এটি শেষ করে সরাসরি বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে (MNC) বিজনেস অ্যানালিস্ট বা এইচআর হিসেবে কাজ করা যায়। Heritage Institute of Technology বা Techno India জাতীয় প্রতিষ্ঠান গুলি এই কোর্সের জন্য আদর্শ।