ডিজিটাল দুনিয়া থেকে ফেরাতে হবে বই পড়ার অভ্যাস! নির্দেশিকা জারি রাজ্যে

ডিজিটাল দুনিয়া থেকে ফেরাতে হবে বই পড়ার অভ্যাস

বর্তমান দুনিয়া এখন ডিজিটাল নির্ভর। হাতের মুঠোফোনে বন্দী আস্ত পৃথিবী। শৈশব, কৈশোর থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস। কার্যত এই অবনতি রুখতেই তৎপর রাজ্য সরকার। তৈরি করতে হবে পড়ুয়াদের বই পড়ার অভ্যাস। সেই ভাবনা থেকেই পরিকল্পনা নেওয়া হলো রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনে সর্বশিক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে। নির্দেশিকা জারি রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে। এই নির্দেশিকা অনুসারে বিস্তারিত গাইডলাইন ও দেওয়া হয়েছে রাজ্যের স্কুলগুলিতে। এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে পঞ্চম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের মধ্যে পঠনপাঠনের পাশাপাশি তৈরি করতে হবে বই পড়ার অভ্যাস। এবং এই উদ্যোগে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা দের। শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে যে গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এই বিষয়গুলি।

রাজ্য শিক্ষা দফতরের গাইডলাইনে কি কি বলা হয়েছে:
১) রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে পড়ুয়াদের শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
২) বিদ্যালয়ের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের মাসে অন্তত তিনটি করে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
৩) ছাত্রছাত্রীদের পড়া বইগুলি সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এবং সেক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের অনুমতি দিতে হবে।
৪) ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
৫) বিদ্যালয়ের সমস্ত পড়ুয়াদের মধ্যে যে বা যাঁরা সবথেকে বেশি বই পড়বে, তাদের নাম বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডের নির্দিষ্ট স্থানে উল্লেখ করে টাঙিয়ে রাখা হবে।

৬) বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির উন্নতি সাধন করতে হবে। লাইব্রেরিতে উপযুক্ত বইয়ের সম্ভার রাখতে হবে। এবং লাইব্রেরির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
৭) নীচু শ্রেণী থেকে সকল শ্রেণীর পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে হবে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি তে যাওয়ার জন্য।
৮) এই সকল পদক্ষেপ গ্রহণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যাতে সকল শ্রেণীর পড়ুয়ারা বই পড়ায় উৎসাহী হয়।

আরও পড়ুনঃ প্রাইমারি টেট পরীক্ষা হলে কি কি নিয়ম মানতে হবে জানালো পর্ষদ

ছাত্রছাত্রীদের মানস গঠনে বইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তক পাঠের মাধ্যমে যা সম্ভব নয়। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি অন্যান্য বই ও পড়তে হবে। তবেই একজন শিক্ষার্থীর সঠিক উত্তরণ সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে ছেলেবেলা। যেখানে ছাত্রছাত্রীরা হাতে নিয়ে বই পড়ার চেয়ে মুঠোফোনে বেশি পারদর্শী। যা আদতে ক্ষতি ডেকে আনছে তাঁদের। তাই এই সমস্ত বিষয়গুলি মাথায় রেখে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর কর্তৃক। এর আগেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে তেরো দফা গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে। এরপর শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে এহেন কর্মসূচি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।