উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছো? ভাবছো কোন কেরিয়ার বাছবে? কোথায় বেশি সুযোগ? তবে আজকের প্রতিবেদন তোমার জন্য। উচ্চ মাধ্যমিকের পরে গ্রাফিক্স ডিজাইন বর্তমানে একটি সেরা কেরিয়ার। বিশেষত যারা আর্টস নিয়ে পড়েছ, তাদের জন্য এই পেশা খুবই উপযুক্ত এবং অন্যতম সেরা বলা যায়। এখনকার ডিজিটাল যুগে একজন গ্ৰাফিক্স ডিজাইনারের বিরাট চাহিদা। সেই জন্য কেরিয়ার গ্রোথের সুযোগ এবং বেতনের পরিমাণও এখানে প্রচুর। কি যোগ্যতা থাকলে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং কোর্স করা যায়? কোথায় ভর্তি হবে? কোন কোর্সটি সবচেয়ে ভালো? ও আরো যাবতীয় তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানব।
এক নজরে
উচ্চ মাধ্যমিকের পরে গ্রাফিক্স ডিজাইন?

ভারত এবং বিদেশের বাজারে ডিজিটাল ইকোনমির উত্থান, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের প্রসার এবং স্টার্টআপ কালচারের কারণে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের বাজার দারুণ। গ্ৰাফিক্স ডিজাইনিং এ ন্যূনতম ৬ মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত মেয়াদের কোর্স হয়। একবার কোর্স কমপ্লিট করে নিলে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। বিভিন্ন বড় বড় দেশীয় ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলি হাই প্যাকেজ স্যালারিতে গ্রাফিক্স ডিজাইনেরদের নিয়োগ করে থাকে। একজন ফ্রেশার গ্রাফিক্স ডিজাইনারের বেতন বছরে ২.৫ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হতে পারে। অভিজ্ঞতা বাড়লে তা ৮ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই যারা এক্ষেত্রে কেরিয়ার তৈরির কথা ভাবছো, আর দেরি না করে প্রয়োজনীয় ডিটেইলস এখনই জেনে নাও।
গ্রাফিক্স ডিজাইনিং কোর্সের যোগ্যতা
গ্রাফিক্স ডিজাইনিং কোর্স মূলত উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরই শুরু করা যায়। আর্টস, সায়েন্স বা কমার্স যে কোন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হতে পারে। তবে আর্টস এর জন্য এই পেশা বেশি উপযুক্ত। সাধারণত কোনো নম্বরের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিভিন্ন ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য অনেক সময়ে ন্যূনতম নম্বর যেমন ৫০% নম্বর প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু নামকরা প্রতিষ্ঠান যেমন: NID DAT, UCEED, Pearl Academy ইত্যাদি প্রথমে একটি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাস করলে তবেই ভর্তির সুযোগ দেয়।
গ্রাফিক্স ডিজাইনের কোর্সের ধরণ ও সময়সীমা
আপনার লক্ষ্য এবং সময়ের ওপর ভিত্তি করে আপনি তিন ধরনের কোর্সের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন:
- আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি (B.Des / BFA): এটি একটি ৪ বছরের কোর্স। মোট ৮ টি সেমিস্টার থাকে । এখানে গ্ৰাফিক্স ডিজাইনিংএর সম্পূর্ণ খুঁটিনাটি শেখানো হয়। যারা ডিজাইনের গভীরে গিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা। এই কোর্স করলে কেরিয়ারের সুযোগও অনেক বেশি।
- ডিপ্লোমা কোর্স: এই কোর্সগুলো সাধারণত ১ থেকে ২ বছরের হয়। যারা দ্রুত হাতে-কলমে কাজ শিখে কাজের জগতে প্রবেশ করতে চান, তারা এটি বেছে নিতে পারেন।
- সার্টিফিকেট কোর্স: ৩ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদী এই কোর্সগুলোতে মূলত নির্দিষ্ট সফটওয়্যার (যেমন: Photoshop, Illustrator, Figma) বা নির্দিষ্ট কোনো স্কিল (যেমন: Branding, Motion Graphics) শেখানো হয়।
কোর্সে কি কি শেখানো হয়?
একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্সে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে শেখানো হয়:
- ডিজাইন ফান্ডামেন্টালস: কালার থিওরি, টাইপোগ্রাফি এবং লেআউট প্রিন্সিপাল।
- সফটওয়্যার ট্রেনিং: Adobe Photoshop, Illustrator, InDesign, CorelDraw এবং বর্তমানের জনপ্রিয় UI/UX টুল Figma বা Adobe XD ইত্যাদি সফটওয়্যারে ডিজাইনিং করা।
- ইলাস্ট্রেশন: স্কেচিং এবং ডিজিটাল ইলাস্ট্রেশন।
- অ্যানিমেশন ও মোশন গ্রাফিক্স: ভিডিও এডিটিং এবং মোশন গ্রাফিক্সের প্রাথমিক জ্ঞান।
- পেশাগত দক্ষতা: পোর্টফোলিও তৈরি এবং ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট।
ক্যারিয়ারের সুযোগ
গ্রাফিক্স ডিজাইন শেষ করার পর বিজ্ঞাপন সংস্থা, আইটি সেক্টর, ই-কমার্স, পাবলিশিং হাউস, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিনোদন জগতের মতো প্রতিটি সেক্টরেই ডিজাইনার হিসেবে কাজ পেতে পারেন। আপনি চাইলে কোনো জায়গায় না গিয়ে ঘরে বসেই কম্পিউটার থেকে ফ্রিল্যান্সিং করেও প্রচুর টাকা রোজগার করতে পারেন। Freelancer, Upwork ইত্যাদি সাইটে প্রায়ই উচ্চ বেতন বা ডলারে গ্ৰাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য বিভিন্ন কাজের কনট্র্যাক্ট বের হয়। এছাড়াও আপনি যদি চান তবে নিজের ব্যবসা বা স্টার্ট আপ শুরু করতে পারেন। সাধারণ গ্ৰাফিক্স ডিজাইনিংএর কোর্স শেষে আপনি যদি UI/UX ডিজাইন, ভিস্যুয়াল কমিউনিকেশন, মোশন গ্রাফিক্স, পাবলিশিং ও প্যাকেজিং ইত্যাদি শেখেন তবে আরো চাকরির সুযোগ বাড়বে।






