পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে পড়ুয়াদের জন্য রাজ্য সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপ স্কিম হল কন্যাশ্রী স্কলারশিপ। মূলত মেয়ে সন্তানদের অবহেলার হাত থেকে বাঁচাতে এবং তাদের শিক্ষিত করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণি পাস থেকে স্নাতক পাস যেকোনো ছাত্রী এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারে। মাসে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রতিবছর রাজ্যের হাজার হাজার ছাত্রী এই স্কলারশিপে টাকা পেয়ে উপকৃত হয়। এবছরও যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। কি কি যোগ্যতা লাগবে, কিভাবে আবেদন করবেন, কি কি ডকুমেন্টস লাগবে ও আরো ডিটেইল নিয়ে আজকে এখানে আলোচনা করব।
এক নজরে
কন্যাশ্রী স্কলারশিপ 2026
| স্কলারশিপের নাম | কন্যাশ্রী স্কলারশিপ। |
| ধরন | সরকারি। |
| বিভাগ | K1, K2, K3। |
| ক্লাস | অষ্টম পাস থেকে স্নাতক পাস। |
| টাকার পরিমাণ | বছরে ১০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা। |
| আবেদন পদ্ধতি | অনলাইন এবং অফলাইন। |
| আবেদনের সময়সীমা | নীচে জানানো হয়েছে। |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | www.wbkanyashree.gov.in |
কন্যাশ্রী স্কলারশিপ – K1, K2, K3
কন্যাশ্রী K1
এটি প্রকল্পের প্রথম ধাপ, যা স্কুল স্তরের ছাত্রীদের জন্য।
- কারা আবেদন করতে পারবে: অষ্টম পাস পড়ুয়া। বয়সসীমা ১৩ থেকে ১৮ বছর এর মধ্যে হতে হবে। পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কম হতে হবে।
- টাকার পরিমাণ: প্রতি বছর ১,০০০ টাকা করে বার্ষিক বৃত্তি দেওয়া হয়।
কন্যাশ্রী K2
এটি প্রকল্পের দ্বিতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ১৮ বছর পূর্ণ হলে ছাত্রীরা এই বড় অংকের টাকা পায়।
- কারা আবেদন করতে পারবে: উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হতে হবে। ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে ১৯ বছরে পড়তে হবে।
- টাকার পরিমাণ: এককালীন ২৫,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়।
কন্যাশ্রী K3
স্নাতক (Undergraduate) পাস করার পর যারা স্নাতকোত্তর (Postgraduate) স্তরে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য এই বিশেষ ধাপটি চালু করা হয়েছে।
- যোগ্যতা: স্নাতক পরীক্ষায় অন্তত ৪৫% নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং নিয়মিত (Regular) পিজি কোর্সে ভর্তি হতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হতে হবে (তবে যাদের আগে থেকে কন্যাশ্রী আইডি আছে, তাদের ইনকাম সার্টিফিকেট লাগে না)।
- টাকার পরিমাণ: বিজ্ঞান বিভাগের (Science) ছাত্রীরা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা এবং কলা বা বাণিজ্য বিভাগের (Arts & Commerce) ছাত্রীরা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে পান।
আরও পড়ুনঃ মাধ্যমিক পাসে প্রণব মুখার্জি স্কলারশিপ
কন্যাশ্রী স্কলারশিপ প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদন করার সময় যে সমস্ত নথিপত্র সঙ্গে রাখা জরুরি:
- জন্ম শংসাপত্র এর ফটোকপি।
- আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড।
- অবিবাহিত হওয়ার ঘোষণা পত্র (K1 ও K2-এর জন্য)।
- পরিবারের আয়ের শংসাপত্র।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস।
- রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
- ভর্তির প্রমাণপত্র এবং শেষ পরীক্ষার মার্কশিট (K3-এর জন্য)।
কন্যাশ্রী স্কলারশিপ আবেদন পদ্ধতি
কন্যাশ্রী প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত:
K1 এবং K2-এর জন্য:
- সংশ্লিষ্ট স্কুল বা কলেজ থেকে নির্দিষ্ট আবেদনপত্র (K1 বা K2 ফর্ম) সংগ্রহ করতে হবে।
- সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
- পূরণ করা ফর্মটি নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে। সেখান থেকেই পোর্টালে তথ্য আপলোড করা হবে।
K3-এর জন্য:
- K3-এর আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করতে হয় স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস (SVMCM) পোর্টালের মাধ্যমে (https://svmcm.wb.gov.in/)।
- পোর্টালে গিয়ে ‘Kanyashree Application’ অপশনটি বেছে নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
- তারপর প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ উচ্চ মাধ্যমিকের পর কোন কোর্সটি সবচেয়ে ভালো?
কন্যাশ্রী স্কলারশিপ আবেদনের সময়সীমা
এই স্কলারশিপ গুলিতে নতুন আবেদন প্রতিবছর সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে গ্ৰহণ করা হয়। কোনো তারিখ আপডেট হওয়া মাত্রই দ্রুত এখানে জানিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।
এরকম স্কলারশিপ সঙ্ক্রান্ত খবর সবার আগে পেতে এক্ষনি আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে জয়েন হন টেলিগ্রাম গ্রুপঃ Join Now