সম্প্রতি রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। রাজ্যের সমস্ত স্কুলগুলোতে ১১ মে থেকে গরমের ছুটি (WB Summer Vacation 2026) শুরু হতে চলেছে। গরমের তীব্র দাবদাহ আর অস্বস্তি থেকে পড়ুয়াদের রেহাই দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে স্কুলগুলোতে ছুটি চললেও পড়াশোনা থেমে থাকবে না পড়ুয়াদের। সেজন্য এ বছর থেকে নতুন উদ্যোগ ‘সামার প্রজেক্ট’ চালু করা হচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন আজকের প্রতিবেদনে।
এক নজরে
WB Summer Vacation 2026
প্রতিবছরের মতো এ বছরও রাজ্যের প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুল গুলোতে গরমের ছুটি নিয়ে ইতিমধ্যেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ ই মে থেকে ছুটি পড়বে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী মে মাসের শেষে গরম খানিকটা কমতে পারে। তাই এই ছুটি আপাতত ১৬ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে শিক্ষা দপ্তর মারফত জানানো হয়েছে। তবে পরে পরিস্থিতি সাপেক্ষে এই ছুটি বৃদ্ধি করা হতে পারে।
বিগত কয়েক বছরে গরমের ছুটির ট্রেন্ড
সাধারণত প্রতিবছরই এপ্রিলের শেষ দিক বা মের প্রথম করে গরমের ছুটি দেওয়া হয়। বিগত কয়েক বছরে দেখা গেছে যে প্রথমে যতদিন ছুটি দেওয়া হয়েছে পরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা সংশোধন করে বাড়ানো হয়েছে।
- ২০২২ সাল: তীব্র গরমের কারণে ২ মে থেকে ছুটি শুরু হয় এবং তা দীর্ঘায়িত হয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত চলে।
- ২০২৩ সাল: ১৭ এপ্রিল থেকে আগাম ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বুঝে মে মাসের শেষে এবং জুনের শুরুতে কয়েক দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।
- ২০২৪ সাল: রেকর্ড ভাঙা গরমের কারণে মে মাসের বদলে ২২ এপ্রিল থেকেই স্কুলগুলোতে গরমের ছুটি শুরু হয়ে যায় এবং তা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
- ২০২৫ সাল: এপ্রিলের শেষ দিকে অতিরিক্ত লু এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির কারণে ৩০ এপ্রিল থেকে ছুটি কার্যকর করা হয়, যা চলেছিল ২ জুন পর্যন্ত।
আরও পড়ুনঃ এই মাসে টানা ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার, কোনদিন কেন ছুটি?
ছুটি থাকলেও ‘সামার প্রজেক্ট’ করতে হবে পড়ুয়াদের
এবারের গরমের ছুটিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের জন্য। ছুটি থাকলেও যাতে পড়াশোনা থেমে না থাকে সেজন্য বিশেষ ‘সামার প্রজেক্ট’ চালু করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে ‘সমগ্র শিক্ষা মিশন’। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি পড়ুয়াকে এই প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে বইয়ের সিলেবাস থেকে কিছু বিশেষ প্রজেক্ট সরকারি আধিকারিকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পড়ুয়াদের একেবারে হাতে-কলমে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা বইয়ের পড়ার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সংযোগ স্থাপন করতে পারবে এবং তাদের পড়াশোনাতেও উন্নতি ঘটবে। এছাড়াও এই সুযোগে তাদের সিলেবাসও এগিয়ে থাকবে।
এরকম গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন। টেলিগ্রাম গ্রুপঃ Join Now