বেআইনিভাবে নম্বর বাড়ানো প্রায় ৬৭৭ প্রার্থীর নাম পেশ, বিচারপতির স্পষ্ট প্রশ্ন “কেন গ্রেফতার হলো না”?

বেআইনিভাবে নম্বর বাড়ানো প্রায় ৬৭৭ প্রার্থীর নাম পেশ

রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির শেষ নেই। এদিন ফের নতুন তথ্য এলো সামনে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও বেআইনিভাবে পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো প্রার্থীর প্রায় ৬৭৭ জনের তালিকা এদিন আদালতে পেশ করা হলো সিবিআই এর তরফে। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে এদিন বিচারপতি তদন্তকারী সিবিআই অফিসারকে প্রশ্ন করেন, “কেন এই প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হলো না? এই সকল প্রার্থীরাও ষড়যন্ত্র করে পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর অভিযোগে সমান হারে অভিযুক্ত”।

সম্প্রতি এসএসসির নিয়োগ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের হদিশ পায় সিবিআই এর তদন্তকারী অফিসাররা। ফরেনসিক রিপোর্টে সামনে আসে নজিরবিহীন তথ্য। জানা যায়, এসএসসির পরীক্ষায় এমন অজস্র খাতা রয়েছে যেখানে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর কোথাও ‘২’ কোথাও ‘১’ আবার কোনোও নম্বর নেই অর্থাৎ ‘০’ পাওয়া প্রার্থী যেমন আছে তেমনই কিছু না লেখা সাদা খাতা জমা দেওয়া প্রার্থী ও বর্তমান। অর্থাৎ এরা কার্যতই পরীক্ষায় অকৃতকার্য। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি এখানেই যে এই সকল অকৃতকার্য প্রার্থীদেরই প্রাপ্ত নম্বর এসএসসির সার্ভার অনুযায়ী কোথাও ‘৫৩’ তো কোথাও ‘৫০’ এমনকি ‘৭০’ পর্যন্ত! অতএব বোঝাই যাচ্ছে যথার্থই অদল-বদল হয়েছে নম্বর। এবং এই নম্বর বদলানো হয় এসএসসির সার্ভারে। আদালতে সিবিআই এর তরফে জানানো হয়, এসএসসির সার্ভার রুম থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ৩ টি হার্ডডিস্ক। যার মধ্যে থেকেই পাওয়া গিয়েছে পরীক্ষার উত্তরপত্রের স্ক্যানড কপি। এই তথ্য সামনে আসার পরই তুমুল শোরগোল পড়ে।

আরও পড়ুনঃ টেটের নম্বর তালিকায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর নাম

এরপর এদিন সিবিআই এর তরফে প্রায় ৬৭৭ জন ‘নম্বর বদলে যাওয়া’ প্রার্থীর নামের তালিকা পেশ করা হয় আদালতে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, এর মধ্যে কতজনকে জেরা করা হয়েছে। বিচারপতির প্রশ্নে সিবিআই জানায় ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এহেন উত্তরে অসন্তুষ্ট বিচারপতি জানতে চান তবে এই ৬৭৭ জনের জিজ্ঞাসাবাদে ঠিক কতদিন সময় লাগবে। একই সাথে বিচারপতি এও বলেন, এই প্রার্থীরা সকলেই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত, কারণ তাঁরাও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত। ফলে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা সহ বয়ান রেকর্ড করা উচিত।

রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি ক্রমশ সামনে আনছে নিত্যনতুন তথ্য। এই দুর্নীতির ছায়া থেকে কবে মুক্ত হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া? সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।