ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)-এর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মোটেই চাট্টিখানি কথা নয়। তাও আবার নানান বিপত্তি পেরিয়ে। তবে বিভিন্ন সময়ে এমন অনেক পরীক্ষার্থীর কথা সামনে আসে, যাঁরা সকল বাধাকে অতিক্রম করে লক্ষভেদ করেছেন সহজেই। এমনই এক পরীক্ষার্থী রাজস্থানের রামভজন কুমার। দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল থেকে ইউপিএসসি উত্তীর্ণ হয়ে নজির গড়েছেন তিনি।।
রাজস্থানের দৌসা জেলার বাপি নামক ছোট্ট গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়ে ওঠেন রামভজন। তাঁর বাবা ও মা শ্রমিকের কাজ করতেন। সীমিত উপার্জনে চলা সংসারে কষ্টে-সৃষ্টে দিন চলত তাঁদের। পড়াশোনার জন্য অনেক ছোট বয়সেই উপার্জনে নামেন রাম। ছোটবেলাতে একসময় দিনমজুরের কাজও করেছেন তিনি। তবে সবসময় সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন রাম। শত কষ্টেও হাল ছাড়েননি তিনি। ২০০৯ সালে দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল পদে যুক্ত হন রামভজন। সে সময় তাঁর আলাপ হয় ফিরোজ আলম নামক আরেক কনস্টেবলের সাথে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে চালু হবে একজোড়া নতুন মেডিক্যাল কলেজ
[quads id=10]
কনস্টেবলের চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করতেন ফিরোজ। ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০১৯ সালে সফলতা অর্জন করেন তিনি। ইউপিএসসি সফল ফিরোজ এসপি পদে নিযুক্ত হন। তাঁকে দেখেই অনুপ্রাণিত হন রাম। তিনিও ইউপিএসসি উত্তীর্ণ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। শুরু হয় কঠিন পরিশ্রম। কনস্টেবলের চাকরির পাশাপাশি চলে পড়াশোনা।
আরও পড়ুনঃ ইউপিএসসি সফল হয়ে স্বপ্ন পূরণ বঙ্গকন্যা দিয়ার
[quads id=10]
রোজ ছয় ঘন্টা করে পড়তেন রামভজন। কিন্তু সফলতার পথ এতটাও সহজ নয়। টানা সাত বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসে ব্যর্থ হন তিনি। তবুও স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। ইউপিএসসি পরীক্ষার আগে এক মাসের ছুটি নেন রাম। চলে একটানা ষোলো ঘন্টা ধরে পঠনপাঠন। পাশাপাশি, তাঁকে সাহায্য করতেন ফিরোজ আলম। একনিষ্ঠ ধৈর্য ও পরিশ্রম তাঁকে পৌছে দিল সাফল্যের দরজায়। ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসে ৬৬৭ র্যাঙ্ক নিয়ে উত্তীর্ণ হলেন রামভজন কুমার। তিনি প্রমাণ করে দিলেন, ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে গেলে সফলতা আসবেই। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।







