এমএ পাশ করেও ১০০ দিনের কাজ করছেন, চাকরি না পেয়ে এই হাল!

এমএ পাশ করেও ১০০ দিনের কাজ করছেন

পশ্চিমবঙ্গের চাকরির হাল এতটাই খারাপ যে হাজার হাজার শিক্ষিত যুবকের চাকরির স্বপ্ন থেকে যাচ্ছে অধরা। প্রকৃত শিক্ষার কোনো দাম নেই এরাজ্যে। আজকাল এমনই কথা কানে কানে শোনা যায় রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের থেকে। কথাগুলো কতটা ঠিক বা ভূল, তা চাকরিপ্রার্থীরাই ভালো জানেন। তবে কিছু কিছু ঘটনা দেখলে এরাজ্যের চাকরি ব্যবস্থার দুর্দশা অনেকটাই বোঝা যায়। সেরকম এক ঘটনা ঘটেছে এরাজ্যের বছর ৩৭ -এর মহিলা গীতশ্রী মান্নার সাথে। এমএ পাশ করেও মেলেনি সরকারি চাকরি। সংসার চালাতে ১০০ দিনের কাজ করছেন।

অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী গীতশ্রী। মাধ্যমিকে ৬২ শতাংশ ও উচ্চমাধ্যমিকে ৫৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করেছেন। পরে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ‘ছত্রপতি শাহজি মহারাজ বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে ২০০৭ সালে ৫৯ শতাংশ নম্বর নিয়ে ভূগোল বিষয়ে এমএ পাস করেন। তারপর শুরু হয় চাকরি পাওয়ার লড়াই। গীতশ্রী দিতে থাকে একের পর এক সরকারি চাকরির পরীক্ষা। কিন্তু বহু বছর চেষ্টার পরও জোটেনি কোনো চাকরি। তিনি জানান, ২০০৭ সালের পর থেকে শুরু হয় তাঁর চাকরির পরীক্ষায় বসা। ইতিমধ্যেই তিন- তিনবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এমনকি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অনেক চাকরিতে পরীক্ষা দিয়েও মেলেনি চাকরি। তাই অধরাই থেকে গেছে সরকারি চাকরির স্বপ্ন। সংসার চালানোর জন্য শুরু করেন হাঁস মুরগি প্রতিপালনের ব্যবসা।

Daily Job Update: Click Here

এতকিছুর মধ্যেও তিনি হাল ছাড়তে নারাজ। নিজের বিশ্বাসের ওপর ভরসা রেখে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের আইসিডিএস সুপারভাইজারের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এখন ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন। গীতশ্রী জানান, ২০১০ সালে তার বিবাহ হয়। স্বামী কলকাতার একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মী ছিলেন। করোনা অতিমারিতে দীর্ঘ দুই বছর লকডাউন -এর কারণে তাও হারিয়ে ঘরে বসে আছেন গীতশ্রীর স্বামী। দুজনে এখন অভাবের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সংসারের অভাব দূর করতে সে হাঁস মুরগি প্রতিপালনের পাশাপাশি একটি সংগঠনের দ্বারা সেলাই মেশিন পেয়ে ছোটখাটো কাজ শুরু করেছেন। এতেও ঠিকমতো আয় হয়ে ওঠেনা। তিনি বলেন, এখন সংসারের পরিস্থিতি দেখে আয়ের পথ না পেয়ে কয়েকদিন হল ১০০ দিনের কাজের জন্য জব কার্ডের আবেদন করেছি। জব কার্ড হয়ে গেলেই আমি ও স্বামী দুজনে মিলেই মাটি কাটার কাজ করতে পারব। তাহলে অভাবের সংসারে কিছুটা হলেও সাহায্য হবে। অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত ভাবে গীতশ্রী আরও জানান, ‘মাঝে মাঝে মনে হয় আর চাকরীর চেষ্টা করব না, এত দূর পড়াশোনা করেও লাভ কি হলো বুঝতে পারিনা।’