দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয় ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)-এর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা। বিচার করে দেখা গেছে পৃথিবীর কঠিনতম পরীক্ষার তালিকাতেও জায়গা করে নেয় এটি। তাই এই পরীক্ষায় সফল হওয়া মোটেই মুখের কথা নয়। তবে এমন অনেক উদাহরণ সামনে আসে যাঁরা সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি টপকেও ইউপিএসসির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আজকের এই প্রতিবেদনে বলা হল তেমনই এক লড়াকু মেয়ে সৌম্যা শর্মার কাহিনী।
ছোট থেকেই পড়াশোনা ভালোবাসতেন সৌম্যা। স্কুলে মেধাবী ছাত্রী ছিলেন তিনি। কিশোরীবেলায় মাত্র ১৬ বছর বয়সে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন সৌম্যা। এহেন ঘটনায় ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। কিন্তু বাধার কাছে মাথা নত করেননি কৃতি। হিয়ারিং মেশিন ব্যবহার করে শুরু হয় তাঁর লড়াই। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ল স্কুলে আইনের পঠনপাঠনে ভর্তি হন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্ন দেখার শুরু। ২০১৭ সালে সৌম্যা স্থির করেন তিনি ইউপিএসসির পরীক্ষায় বসবেন। তবে কোচিং নয়, নিজের চেষ্টাতেই প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। ২০১৮ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন তিনি। মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতেই বাজিমাত করেন কৃতি। সে বছর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ৯ র্যাঙ্ক করে উত্তীর্ণ হন সৌম্যা শর্মা। নির্বাচিত হন আইএএস (IAS) অফিসার হিসেবে।
আরও পড়ুনঃ জেদ ও দৃঢ়তায় স্বপ্নজয় করলেন দলিত সন্তান ডোংরে
[quads id=10]
অনেকের মনে হতে পারে তিনি বিশেষ কোটায় আবেদন করে সুবিধা পেয়েছিলেন। কিন্তু এখানে বলে রাখা ভালো, আইএএস অফিসার সৌম্যা সেই কোটায় আবেদন করেননি। বরং সাধারণ কোটায় আবেদন করেই পরীক্ষায় বসেন তিনি। বর্তমানে অফিসার সৌম্যা নাগপুর জেলা পরিষদের সিইও হিসেবে মহারাষ্ট্র ক্যাডারে পোস্টেড। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইউপিএসসি জয় করে পরিবারে খুশির জোয়ার আনেন সৌম্যা। যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে যেভাবে স্বপ্নজয় করেছেন তিনি, তা নিঃসন্দেহে মনে রাখার মতো।
আরও পড়ুনঃ বর্তমানে কি কি চাকরির ফর্ম ফিলাপ চলছে দেখে নিন
[quads id=10]







