চাকরির খবর কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স 365New জেলার চাকরি রেজাল্ট স্কলারশিপ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সিলেবাস পরীক্ষার তারিখ
Focus

এম.এ পাশ করে মেলেনি চাকরি, তন্ময় এখন লটারি বিক্রেতা

Madhumita Pal
---Advertisement---

খবরের কাগজে চোখ রাখলে প্রায় দেখা যাচ্ছে কিছু শিক্ষিত বেকার অসহায় যুবক যুবতীর কাহিনী। প্রকৃত শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে চাকরি থেকে। তেমনি এক উদাহরণ দেখা গেল মুর্শিদাবাদ জেলার নওদার সাকোপারা এলাকার বাসিন্দা তন্ময় চুনারি নামে এক যুবকের, এমএ পাশ করেও মেলেনা চাকরি অবশেষে পেটের দায়ে এমএ পাশ যুবককে খুলতে হলো লটারির দোকান। রাস্তার ধারে ছোট লটারির টেবিল। সারিবদ্ধ ভাবে লটারি সাজানো রয়েছে সেই টেবিলে। লাল টেবিলের সামনে বড় বড় করে লেখা ‘এমএ পাশ লটারীওয়ালা তন্ময়’। মুর্শিদাবাদের নওদার আমতলা বাজারে রয়েছে এমনই লটারির দোকান।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মারা যায় তন্ময়ের। ছোট থেকেই বাড়িতে অভাব ছিল, অনেক লড়াই করেই স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন তিনি। বেশ কিছু পরীক্ষায় পাশ করলেও মেলেনি চাকরি। দাদা মারা যাওয়ার পর সংসারের ভার এসেছে তাঁর কাঁধে। তাই দাদার লটারির দোকানকেই নতুন করে সাজিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে তন্ময় বলেছেন, “অনেক দুঃখ করেই নামটা লিখেছি। এমএ পাশ করার পরও আজ আমাকে লটারি বিক্রি করতে হচ্ছে।

চাকরিরি খবরঃ জেলা হাসপাতালে গ্রুপ- সি কর্মী নিয়োগ

২০১১ সালে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাশ করেন তন্ময়। তারপর সংসারের খরচ জোগাতে কখনও রাজমিস্ত্রি, কখনও রংমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ, কখনও অন্যের জমিতে দিনমজুরিও করতে হয়েছে তাঁকে। এ ভাবে ২০১৮ সালে আমতলা যতীন্দ্র রাজেন্দ্র মহাবিদ্যালয় থেকে বিএ এবং গত বছর দূরশিক্ষায় বাংলা নিয়ে এমএ পাশ করেন তিনি। কিন্তু দাদার মৃত্যু হতেই ফের আর্থিক অনটন শুরু হয় সংসারে। তার পরই তন্ময়কে হতে হয় ‘এমএ পাশ লটারিওয়ালা’। নিজের জীবন সংগ্রাম নিয়ে তন্ময় বলেছেন, “সারাদিনে ৪০০ টিকিট বিক্রি করতে পারলে ১৬০ টাকা কমিশন পাই। এদিয়ে তো সংসার চলে না। টিউশনও পড়াই সে। এ ভাবেই দিন কাটছে। তাঁর অসুস্থ মায়ের জন্য মাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার ওষুধ লাগে। সেই সঙ্গে রয়েছে সংসারের বাকি খরচাও। পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও লড়াই ছাড়েননি নওদার এই যুবক।

চাকরিরি খবরঃ রাজ্যে ভলেন্টীযার নিয়োগ

নিজের রোজকার দিনলিপি নিয়ে তিনি, “ভোর সাড়ে তিনটাতে উঠে হাইস্কুলের মাঠে দৌড়তে যাই। বাকিদের দৌড় প্র্যাকটিস করাই। তার পর সকাল ৬ টায় টিউশন পড়াই। নিজেও পড়াশোনা করি। কষ্ট করেই বিএ, এমএ পাশ করেছেন তন্ময়। আশা ছিল চাকরি করে সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু সেই গভীর আশা-নিরাশায় পরিণত হয়েছে। ভাগ্য যাচাই করতে অনেক লোকই লটারি কেনে তাঁর থেকে। সেই টেবিলে বসেই নিজের ভাগ্য গড়ার লড়াই চালাচ্ছেন এই লটারিওয়ালা তন্ময়।

Madhumita Pal

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে ৩+ বছর ধরে বোর্ড পরীক্ষার আপডেট লিখছেন। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও CBSE সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করেন। সিলেবাস ও রুটিন বিশ্লেষণে পারদর্শী।

---Advertisement---
স্কলারশিপ
Current Affairs Book
জেনারেল নলেজ