দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ঢোকা শুরু হল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে এই টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নবান্ন। তবে এই খুশির হাওয়ার মাঝেও নতুন সংশয় দানা বেঁধেছে সরকারি কর্মীদের মনে। অনেকেই হিসেব করে দেখছেন যা পাওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে কম টাকা ঢুকেছে অ্যাকাউন্টে। আপনিও কি এরিয়ারের টাকা পেয়েছেন? সত্যিই কি হিসাবের চেয়ে কম টাকা ঢুকেছে, বিস্তারিত আজকের প্রতিবেদনে জানবো।
এক নজরে
রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ঢোকা শুরু হল
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া নিয়ে লড়াই বহু বছর ধরে চলছে। হাইকোর্ট এমন কি সুপ্রিম কোর্টেও বারবার দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। এতদিন রাজ্য সরকারের তরফে কোন সদুত্তর না আসলেও এবছর মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে রাজ্য। তবে যেহেতু দীর্ঘ ১০ বছরের ডিএ জমে, তাই একবারে না হলেও কিস্তিতে ধীরে ধীরে সেই টাকা মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে রাজ্য সরকারকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। সেই নির্দেশ মতোই আজ থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ঢোকা শুরু হয়েছে।
অর্থ দফতরের বিশেষ পোর্টাল ও এসওপি (SOP)
বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে চলতি সপ্তাহেই রাজ্য অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এই পোর্টালে সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের প্রথম কিস্তির হিসেব অর্থাৎ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ-র হিসাব আপলোড করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) জারি করেই এই বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।
হিসাবের চেয়ে কি কম এরিয়ার ঢুকছে?
টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করলেও খুশি হতে পারছেন না অনেক কর্মচারী। পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতির মতো সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে:
- কর্মচারীদের দাবি, হিসাব অনুযায়ী যা বকেয়া পাওয়ার কথা, তার থেকে অনেক কম টাকা দেওয়া হচ্ছে। HRMS সিস্টেমেই গণনার ত্রুটি রয়েছে, বলছেন তাঁরা।
- এছাড়াও বিল প্রস্তুতের সময় জেনারেট হওয়া সিস্টেমে উল্লেখ করা হচ্ছে ডিএ এরিয়ারের টাকা ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে। অথচ সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন হলো ৩১ মার্চ। এর ফলে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
- জেলা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট বা এডিজে কোর্টে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-বি কর্মচারীদের জন্য এখনও নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থার কথা জানানো হয়নি।
আরও পড়ুনঃ 8th Pay Commission নিয়ে বিরাট আপডেট, কবে আর কত টাকা বাড়বে?
এখন রাজ্য সরকারি কর্মীদের কি ভবিষ্যৎ?
বকেয়া মেটানোর কাজ যাতে ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হয়, সেজন্য বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নের অ্যাকাউন্টস বিভাগের কর্মচারীদের শনিবার ও রবিবারের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এমনকি আগামী সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতেও অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিএ এরিয়ার মেটানো যায়। সরকার জানিয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রথম কিস্তির টাকা মিটিয়ে তোরজোড় শুরু করতে হবে পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড়ার, যা সেপ্টেম্বর মাসে ঢোকার কথা।
এরকম গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন। টেলিগ্রাম গ্রুপঃ Join Now