স্বল্প পুঁজিতে শুরু করুন এই ব্যবসা, প্রতিমাসে রোজগার ৪০ হাজার

স্বল্প পুঁজিতে শুরু করুন এই ব্যবসা

‘সরকারি চাকরি হলো না মানে সে বেকার, তার দ্বারা আর কিছু হবে না’- এই পুরনো প্রথাগত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। চাকরি অবশ্যই একটি সাম্মানিক পদ, পাশাপাশি উচ্চ হারে বেতনও রয়েছে। কিন্তু চাকরি না করলে জীবন বেকার হয়ে যাবে এই ধারণাও ঠিক নয়।

স্বল্প পুঁজিতে শুরু করুন এই ব্যবসা

প্রতিবারের মত বিকল্প কর্মসংস্থানের নতুন প্রতিবেদনে নতুন একটি কর্মসংস্থানের দিশা নিয়ে আমরা হাজির হয়েছি। আজকে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব একটি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া। ব্যবসা শুরু করলেই আপনি সফলতা পাবেন এমন ধারণা ঠিক নয়। তাই যেকোন ব্যবসা শুরু করার আগে ওই ব্যবসা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা, ব্যবসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জিনিসের চাহিদা, লাভ সহ একাধিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে তবেই ব্যবসা শুরু করা উচিত।
আজকের এই প্রতিবেদনে আপনাদের সাথে একটি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করবো। মাত্র ২০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে কয়েক মাস পর থেকেই মাসিক ৪০,০০০ টাকা বা তার বেশি রোজগার করতে পারবেন।

সয়া বড়ির ব্যবসা

ব্যবসাটি হলো সয়া বড়ি বা সয়াবিন ব্যবসা। সয়াবিন অত্যন্ত পুষ্টিকর উপকারী খাদ্য। নিরামিষ হোক বা আমিষ যেকোনো ধরনের খাবারে সয়াবিন প্রযোজ্য। বাচ্চা থেকে বুড়ো যেকোনো বয়সের মানুষ সয়াবিন খেতে পছন্দ করেন। তাই বাজারে সয়াবিনের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

সয়া বড়ির ব্যবসা কেন করবেন?

খুব স্বল্প ব্যয়ে অনেক বেশি ইনকাম করা যায়। শুধু স্বল্প ব্যয় নয় স্বল্প পরিশ্রমেও এই ব্যবসা করা যায়। শুধু তাই নয়, এই ব্যবসা একা নিজের হাতে সামলানো যাবে।

Read More:
বর্তমানে ৫ টি লাভজনক ব্যবসা
১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করুন এই ব্যবসা
এই ব্যবসা করে মাসে ৫০ হাজার টাকা রোজগার করুন

প্রয়োজনীয় জিনিস

১) সয়াবিন
২) বিভিন্ন সাইজের প্লাস্টিক প্যাকেট
৩) একটি ইলেকট্রিক ওয়েট মেশিন
৪) প্যাকেজিং মেশিন

সয়াবিনের ব্যবসা করতে গেলে নিজের মেশিন কিনে এই ব্যবসা করা যায়। তবে মেশিন কিনতে গেলে অনেক বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তাই মেশিন ছাড়া এবং কম পুঁজিতে এই ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রাথমিকভাবে পাইকারি দরে সয়াবড়ি কিনে প্যাকেজিং করে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তীকালে চাহিদা এবং লাভের উপর ভিত্তি করে মেশিন কিনতে পারেন।

পদ্ধতি

ভালো মানের সয়াবড়ি বাজার থেকে পাইকারি দরে কিনে আনতে হবে। তারপর নির্দিষ্ট পরিমাণ মতো ওয়েট মেশিনের সাহায্যে বিভিন্ন ওজনে ভাগ করতে হবে। ওজন করা সয়াবড়ি গুলিকে নিজস্ব ব্র্যান্ডের নামে প্রিন্ট করা বিভিন্ন সাইজের প্যাকেটে ঢুকিয়ে সিল করতে হবে। সিল করার জন্য লাগবে প্যাকেজিং মেশিন। প্রসঙ্গত, যেকোনো বড় শহরের পাইকারি বাজারে নিজের ব্র্যান্ডের নামে প্যাকেজিং মেটেরিয়াল অর্ডার দিতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

এই ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রাথমিকভাবে নিজের গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস অথবা মিউনিসিপালিটি অফিস থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। ব্যবসায় যদি উন্নতি দেখতে পান পরবর্তীকালে আপনার নিজের ব্র্যান্ডের ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এবং বার্ষিক ২০ লক্ষ টাকা টার্নওভার হলে জিএসটি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

লাভের পরিমান

বিভিন্ন নামকরা ব্র্যান্ডের সয়াবিনের প্যাকেটগুলি বাজারে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়। ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়া প্যাকেটগুলি সম্পূর্ণ তৈরী করতে খরচ পড়বে ৭- ৮ টাকা। তবে বেশি পরিমান প্যাকেট করলে আরও কম মূল্যে প্যাকেটগুলি সম্পূর্ণ তৈরী হয়ে যাবে। বিভিন্ন পাইকারি বাজারে এই প্যাকেটগুলি কমবেশি ১০- ১১ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। ধরে নেওয়া যেতে পারে সব মিলিয়ে প্যাকেট প্রতি আপনার লাভ হতে পারে ১.৫ থেকে ২ টাকা। একটি প্যাকেটের জন্য এই মূল্যটা কম মনে হলেও যখন প্রতিদিন বিভিন্ন পাইকারি বাজারে ১০০০ থেকে ২০০০ বা তার বেশি সয়াবিন প্যাকেট বিক্রি হবে তখন মাসিক লাভের পরিমান হবে ৬০ হাজার টাকা বা তার বেশি।